ক্যারিয়ার

কভার লেটার লেখায় যে বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন

কভার লেটার লেখার নিয়ম

আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়ার জন্য যেমন আপনার সিভি খুব গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সিভির কভার লেটার সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেকে সিভি তৈরি নিয়ে ব্যস্ত থাকি কিন্তু কভার লেটার সম্পর্কে ভাবনায় রাখি না। শুধু সিভি তৈরি করা শিখলে হবে না, আকর্ষণীয়  সিভি কভার লেটার লেখাও আপনাকে শিখতে হবে। আমি আমার আশেপাশের অনেককেই দেখেছি যারা সিভির উপর খুবই যত্নশীল কিন্তু কভার লেটার নিয়ে তেমন ভাবেন না।
আমি এর আগের একটি পোস্টে কভার লেটার লেখা বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছি। কিন্তু আপনাকে শুধুমাত্র কভার লেটার আকর্ষণীয় করার সূত্রগুলো জানলেই হবে না। একই সাথে জানতে হবে কভার লেটার আকর্ষণীয় করতে কোন কোন বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত। অর্থাৎ আপনাকে জানতে হবে কভার লেটার লেখার সময় কোনো কাজগুলো করা যাবে না।

 

বানান ভুল এবং ব্যাকরণগত ত্রুটি

Grammer Mistacks

একটি সিভি এবং কভার লেটার একই সাথে আপনার দক্ষতা, যোগ্যতা এবং পেশাদারিত্বের প্রথম পরিচয় বহন করে। তাই আপনাকে এর শব্দ বিন্যাস এবং ব্যাকরণগত সকল ভুল দূর করতে হবে। মনে রাখবেন কোনোভাবেই সিভি এবং কভার লেটারে বানান ভুল বা কোনো ব্যাকরণগত ত্রুটি থাকা চলবে না।

ভেবে দেখুন আপনি যেখানে সিভি জমা দিয়েছেন বা দিবেন সেই নিয়োগকর্তা আপনাকে এখনও চোখে দেখেননি। তার কাছে এখন পর্যন্ত আপনার সার্বিক যোগ্যতার একমাত্র দলিল হচ্ছে আপনার সিভি। সুতরাং আপনার সিভি এবং কভার লেটারে যদি ভুল থাকে তাহলে নিয়োগকর্তা আপনাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন!

তাছাড়া এটাও মনে রাখতে ভুলবেন না সিভির কভার লেটার অনুপযুক্ত শব্দ ব্যবহার করে সৃজনশীলতা প্রদর্শনের জায়গা নয়। কভার লেটারের প্রতিটি ভুল আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দূরদর্শিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

শব্দচয়ন নিয়ে ছোট্ট ছোট্ট তিনটি নির্দেশিকা দিলাম:
আপনি “you’re.” ব্যবহারের পরিবর্তে “your” ব্যাবহার করুন।
আর “there.” এর পরিবর্তে “their” ব্যবহার করুন।
এবং “been.” পরিবর্তে “being” ব্যবহার করুন।

 

কর্মসংস্থান বিরতি এবং ক্যারিয়ার পরিবর্তনের কারন ব্যাখ্যা

কর্মজীবনে আপনার নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতেই পারে। আবার কোন কারনে কয়েক বছর চাকরি শূন্য থাকতে পারেন আপনি। এটা কোনো ভাবেই আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। এমনকি এই শূন্যতা নতুন চাকরির জন্য আপনাকে অযোগ্যও করে তোলে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই গ্যাপ আপনার জন্য ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনতে পারে।

তবে সবকিছু নির্ভর করে কর্মজীবনের এই শূন্যতা আপনি কিভাবে আপনার চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাখ্যা করছেন। অর্থাৎ কর্মজীবনের শূন্যতার যথাযথ ব্যাখ্যা করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ঐতিহ্যগত কারনে সিভি ফরমেটে এই ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য কোনো জায়গা রাখা হয় না। এক্ষেত্রে আপনার সিভির কভার লেটার হতে পারে সংক্ষিপ্ত এই ব্যাখ্যা দেয়ার  সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা। কাজেই সিভির কভার লেটারে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরুন আপনার সমস্যার কথা, কেন আপনি চাকরি শুন্য রয়েছেন।

ভাবছেন হয়ে গেলো কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আপনার আবেদনে যদি ক্যারিয়ার পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে তবে তারও যথাযথ ব্যাখ্যা দিন। যেমন ধরুন আপনি  দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরি করেছেন। স্এবাভাবিকভাবেই এই ক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা বিস্তর হয়েছে চাকরি জীবনে। কিন্তু এখন যেখানে আবেদন করেছেন তাতে আপনি বিপণন জগতে প্রবেশ করতে চাইছেন। এই ক্যারিয়ার পরিবর্তনের কারণ নিজ থেকেই সঠিক ব্যাখ্যা করতে হবে।

আপনার অতীত অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলুন। আপনার বর্তমান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরুন। আপনার অতীত অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি কিভাবে মার্কেটিং জগতে ভূমিকা রাখতে পারে তাও বলার চেষ্টা করুন।

 

কভার লেটার এ পূর্বের বসের খারাপ দিক উল্লেখ করবেন না

একটি কথা মনে রাখবেন, আপনার সিভির কভার লেটার জীবনের ঘটনা প্রবাহ দিয়ে সাজানোর কিন্তু এটি কোন আত্মজীবনী লেখার জায়গা নয়। সুতরাং এখানে সকল প্রকার বাহুল্য লেখা বর্জন করুন। আপনি পূর্ববর্তী চাকরি থেকে যেকোনো কারণে বিতাড়িত হতে পারেন বা ছেড়ে আসতে পারেন। কিন্তু নতুন চাকরিতে নিয়োগকর্তার মনোযোগ আকর্ষণ করতে পূর্ববর্তী বসের নিন্দা করা বন্ধ করুন, এটি আপনার নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য হিসাবে ধরা দেবে।

কভার লেটার এ পূর্বের বসের খারাপ দিক উল্লেখ করবেন না

আশ্চর্যজনকভাবে সত্য অসংখ্য  ব্যক্তি তার কভার লেটারে পূর্ববর্তী বস এবং প্রতিষ্ঠানের নেতিবাচক দিক উল্লেখ করতে দেখা যায়। আপনি যদি সত্যিই নতুন চাকরিটা পেতে চান তবে কোনোভাবেই এ জাতীয় কোনো কিছু উল্লেখ করবেন না। নতুন নিয়োগকর্তার মনোযোগ পেতে আপনাকে একজন আত্মবিশ্বাসী, নির্ভরযোগ্য, ও সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন আবেদনকারী হিসেবে উপস্থিত করুন।

 

 কপি করা বন্ধ করুন

অসংখ্য আবেদনকারী কভার লেটারে সরাসরি সিভির অংশ কপি করে পেস্ট করে থাকেন। তারা মনে করেন কভার লেটার হল সিভির সারসংক্ষেপ। সুতরাং সিভিতে থাকা সকল তথ্যের মধ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো কপি করে তারা কভার লেটারে পেস্ট করেন।

কখনোই এই কাজটি করবেন না। সিভি এবং কভার লেটারে একই তথ্য থাকলেও নতুন শব্দচয়নে কথাগুলো লেখার চেষ্টা করুন। সংক্ষিপ্ত আকারে নিজের সব যোগ্যতা তুলে ধরার অর্থ সিভি থেকে সুনির্দিষ্ট যোগ্যতাগুলো কপি-পেস্ট করা নয়।

 

লিঙ্গ নিরপেক্ষ সম্মোধন

আবেদনপত্রে সম্মোধন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বেশিরভাগ আবেদনকারী “Dear sir/ma” অথবা “to whom this may concern.” লিখে সম্মোধন করে। আমি আপনাদের এজাতীয় সম্মোধন ত্যাগ করার পরামর্শ দিব।

কেননা প্রথমতঃ আপনি আপনার সম্ভাব্য ব্যবস্থাপক বা নিয়োগকর্তার লিঙ্গ জানেন না। সুতরাং এভাবে সম্বোধন করলে তাকে ভুল ভাবে সম্বোধন করা হতে পারে। দ্বিতীয়তঃ এটি অলসতার প্রমাণ। কেননা এমনটাই সিংহভাগ মানুষ করে থাকে।

সুতরাং এ জাতীয় সম্বোধনের পরিবর্তে আপনি Dear hiring manager অথবা Dare XYZ team লিখে সম্বোধন করতে পারেন। লক্ষ্য করুন এজাতীয় সম্মোধন সম্পূর্ণ লিঙ্গ নিরপেক্ষ। সুতরাং আপনার বস নারী বা পুরুষ যেই হোন না কেন, এমন সম্মোধন তাকে খুশি করার জন্য যথেষ্ট। কাজেই সিভির কভার লেটারে সবসময় লিঙ্গনিরপেক্ষ সম্মোধন ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

 

সুপ্রিয় পাঠক, আমি আমার এই পোস্টে সহজভাবে দেখাতে চেয়েছি সিভির কভার লেটার লেখার সময় কোন কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হয়। আশা করি আপনার বুঝতে অসুবিধা হয়নি। কিভাবে কভার লেটার লিখতে হয় তা জানতে আমার আরেকটি পোস্ট দেখতে পারেনঃ কভার লেটার লেখার নিয়ম কানুন। এই পোস্টটি যথেষ্ট মনে না হলে আমাকে জানান অথবা গুগলে সার্চ করে আপনার পছন্দসই ব্লগটি পড়ে নিন। যেকোনো জিজ্ঞাসা থাকলে কমেন্ট বক্সে করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।